শিলিগুড়ি, ১৭ অক্টোবর: উৎসবের আনন্দ কেবল নিজেদের উদযাপনে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রকৃতিকে সুরক্ষার বার্তা দেওয়াই প্রকৃত উৎসবের বার্তা। দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে ঠিক এই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিল উত্তরবঙ্গ সামাজিক মঞ্চ। শুক্রবার শিলিগুড়ির ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাযতীন কলোনি মুক্তমঞ্চের মাঠে সংগঠনের উদ্যোগে এক বিশেষ বস্ত্র বিতরণ ও ‘বৃক্ষ উপহার’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উৎসবের মরসুমে নতুন জামাকাপড় এবং একটি করে চারাগাছ পেয়ে বাঁধভাঙা খুশিতে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা।
মা-বোনেদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার আনন্দ
শারদোৎসবের দিনগুলিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল এই সামাজিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই দিনে বাঘাযতীন কলোনি সংলগ্ন এলাকার বহু দুস্থ ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের মা ও বোনেদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা। পুজোর ঠিক মুখেই নতুন পোশাক উপহার পেয়ে আপ্লুত উপস্থিত মহিলারা। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার এই অনুভূতিই সামাজিক মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
সবুজায়নের বার্তা ও গাছের চারা বিতরণ
শুধু মানবসেবাই নয়, এর পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজায়নের প্রসারে এক অনন্য উদ্যোগ নেয় মঞ্চ। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদে উপস্থিত প্রত্যেক মানুষের হাতে একটি করে ফলজ ও ছায়া প্রদানকারী চারাগাছ উপহার দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারকে একটি করে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
উপস্থিত বিশিষ্টজন ও সামাজিক নেতৃত্ব
এই বর্ণাঢ্য ও মানবিক অনুষ্ঠানে সংগঠনের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক নেতৃত্ব উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উত্তরবঙ্গ সামাজিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক বাপি পাল, সভাপতি লালু মায়া ছেত্রী, মুন্না ছেত্রী, পিন্টু প্রসাদ, গণেশ সিং, গোকুল গিরি, বাণী পাল ও চুমকি সাহা প্রমুখ।
সেবা ও পরিবেশবান্ধব ভাবনার মেলবন্ধন
অনুষ্ঠান শেষে উত্তরবঙ্গ সামাজিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক বাপি পাল জানান, “মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং একই সঙ্গে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব পালন করা—এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমাদের পথচলা। ‘মানুষের পাশে থাকি, পরিবেশকে ভালোবাসি—সেবার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠুক সুন্দর সমাজ ও সবুজ উত্তরবঙ্গ’—এই বার্তাই আমরা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে চাই।” স্থানীয় বাসিন্দারা সংগঠনের এই যৌথ মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।