কামতাপুর আলাদা রাজ্যের দাবিতে ১৯৮৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রেল রোকো আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন জগদীশ রায় ও গজেন রায়। তাঁদের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে রাজবংশী কামতাপুরী সমাজ প্রতিবছর এই দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
রাজগঞ্জ ব্লকের বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সাহুডাঙ্গিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ৩৯তম শহীদ দিবস। জগদীশ কলোনি ও সাহুডাঙ্গির দুটি শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
পাশাপাশি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জগদীশ রায়ের পরিবারের সদস্যরা, কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের সভানেত্রী তপতী রায় মল্লিক, সমাজসেবী দেবাশীষ সরদার, অজয় অধিকারী, ‘গরিবের ডাক্তার’ স্বপন রায়, স্বাধীন রায়, রাজেশ রায়, শিলিগুড়ি লায়ন্স গো গেটারসের সভাপতি সগতা রায়, অর্জুন বর্মন, মোহিত মালাকার সহ আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তপতী রায় মল্লিক বলেন, “আজকের দিনটি গোটা রাজবংশী কামতাপুরী সমাজের কাছে শোকের দিন।
আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায়ের দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই এগিয়ে এসে নিতে হবে। আন্দোলনের পথে যত রক্তের প্রয়োজন হবে, আমরা তা দিতেও প্রস্তুত।”
অন্যদিকে রাজেশ রায় বলেন, “জগদীশ রায় ও গজেন রায়ের আত্মত্যাগ রাজবংশী কামতাপুরী সমাজ কখনও ভুলবে না, ভবিষ্যতেও ভুলবে না।”
শহীদ দিবস উপলক্ষে সাহুডাঙ্গিতে একাধিক সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর মধ্যে ছিল বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, রক্তদান শিবির, গরিব ও দুস্থ ১০০ জন মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং প্রায় ৫০০ জন দরিদ্র মানুষের জন্য নারায়ণ সেবার ব্যবস্থা।
সমাজসেবী দেবাশীষ সরদার বলেন, “এমন সুন্দর ও অর্থবহ একটি অনুষ্ঠানে এসে খুব ভালো লাগছে। রাজবংশী কামতাপুরী মানুষের ইতিহাস ও সংগ্রামের কথা জানতে পেরে আরও অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমি সব সময় এই সমাজের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”
শ্রদ্ধা, স্মৃতি ও সমাজসেবার মেলবন্ধনে সাহুডাঙ্গিতে এভাবেই মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো ৩৯তম শহীদ দিবস।