শিলিগুড়ি২৩ ফেব্রুয়ারী: শিলিগুড়ি পুরসভার টাস্ক ফোর্সের অভিযানে দেশবন্ধু পাড়ার জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান গীতা সুইটস-এ মুরগির মাংস উদ্ধারের ঘটনায় শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবারের এই অভিযানে দোকানের একটি ফ্রিজ থেকে মাংস উদ্ধার হয় বলে জানা যায়। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ তুলে দোকান কর্তৃপক্ষকে নোটিশও দেয় পুরসভা।
ঘটনার পর থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে মিষ্টি সাধারণত শুভ কাজের সঙ্গে জড়িত, সেখানে সেই দোকানের ফ্রিজে মাংস পাওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দোকানের কর্ণধার বাপ্পা মোদক ও তাঁর মেয়ে অন্বেষা মোদক। তাঁদের দাবি, যে ফ্রিজ থেকে মাংস উদ্ধার হয়েছে, সেটি মূল দোকানের নয়, কারখানার কর্মীদের ব্যবহারের ফ্রিজ। কর্মীরা নিজেদের খাওয়ার জন্য সামান্য মাংস সেখানে রেখেছিলেন। দোকানের উৎপাদন বা বিক্রির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই বলে তাঁরা জানান।
দোকান কর্তৃপক্ষ আরও বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সমস্ত নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে পরিকাঠামোগত কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, যা দ্রুত সংশোধন করা হবে। সেপটিক ট্যাংকের উপর বাসন ধোয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁদের দাবি, সেখানে কেবল ছানার জল ফেলা হয়, অন্য কোনও কাজ হয় না। ভবিষ্যতে যাতে এমন কোনও ভুল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন প্রশ্ন তোলেন, “মিষ্টির দোকানে মাংস পাওয়ার পরেও কেন শুধুমাত্র নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো? কেন দোকান সিল করা হলো না? কেন লাইসেন্স বাতিল করা হলো না?” তিনি অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।
ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, তদন্ত ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া যায় না। তাঁর কথায়, “মানুষের ভুল হতেই পারে। তাই বলে সঙ্গে সঙ্গে চরম শাস্তি দেওয়া যায় না।” তিনি জানান, নিয়মিত অভিযান চলছে এবং যেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে অযথা রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।