স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘মাখন ভোগ’-এর কারখানা সিল, একাধিক ক্ষেত্রে জরিমানা
শিলিগুড়ি, ২৯ আগস্ট:
শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ শিলিগুড়ি পুরনিগমের। শনিবার পুর কমিশনারের নেতৃত্বে শহরজুড়ে অভিযান চালানো হয়। সেবক রোড থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
নোংরা আবর্জনা ফেলায় জরিমানা
অভিযানের শুরুতেই বাড়ি ও দোকানের সামনে নোংরা আবর্জনা ফেলে রাখার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি ও শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে তাঁদের জরিমানা করা হয় বলে পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে।
‘মাখন ভোগ’-এর কারখানায় হানা, ব্যবহৃত ঘিয়ে মৃত পোকা উদ্ধারের অভিযোগ
এরপর সেবক রোডে ‘মাখন ভোগ’ মিষ্টির দোকানের কারখানায় অভিযান চালায় পুরনিগমের দল। সেখানে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ার অভিযোগ ওঠে। পুরনিগমের দাবি, ব্যবহৃত ঘিয়ের মধ্যে মৃত পোকামাকড় পাওয়া যায়।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরই কারখানাটি সিল করে দেয় পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, কারখানার সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি পুরনিগমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানাও করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
পাঞ্জাবিপাড়ায় বহুতল নির্মাণে নথি নিয়ে প্রশ্ন
এরপর পুরনিগমের অভিযান পৌঁছয় পাঞ্জাবিপাড়ায়। সেখানে একটি বহুতল নির্মাণস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্মাণ সংক্রান্ত বৈধ নথি দেখতে চাওয়া হয়। অভিযোগ, সেই সময় প্রয়োজনীয় বৈধ নথি দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুধু তাই নয়, বহুতলের আন্ডারগ্রাউন্ডে বিপুল পরিমাণ জল জমে থাকার বিষয়টিও পুরনিগমের নজরে আসে।
জমা জলে ডেঙ্গুর আশঙ্কা, এক লক্ষ টাকা জরিমানা
পুরনিগমের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জল মশার বংশবৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মরশুমে এই ধরনের জল জমে থাকা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।
এই কারণেই সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে পুরনিগম সূত্রে খবর।
আগামীতেও চলবে অভিযান
শহরের স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার বিরুদ্ধে পুরনিগম যে এবার আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে, শনিবারের অভিযানেই তার ইঙ্গিত মিলেছে।
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।