খাবারে পোকা, আরশোলা ও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ
শিলিগুড়ি, ২ সেপ্টেম্বর: শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে খাবারের গুণগতমান এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে লাগাতার অভিযানে নামল শিলিগুড়ি পৌরনিগমের খাদ্য বিভাগ, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও পুলিশ প্রশাসন। রান্নাঘরের পরিবেশ, খাদ্যসামগ্রীর মান এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিরিয়ানির দোকানে খাবারে পোকা, পরপর দুই দোকান সিল
সম্প্রতি শহরের দুটি বিরিয়ানির দোকানে খাবারের মধ্যে পোকা পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দুই দোকানেই অভিযান চালানো হয় এবং পরপর দুটি দোকান সিল করে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
অভিযানে মিলছে আরশোলা ও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী
প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানে শহরের বেশ কয়েকটি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারে পোকা, আরশোলা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কোথাও রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কোথাও আবার খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ সামনে এসেছে। অনিয়ম ধরা পড়ায় একাধিক দোকানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিল করে দেওয়া হয়েছে।
মিষ্টির দোকান ও কারখানাতেও নজরদারি
শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁ নয়, শহরের বিভিন্ন নামী মিষ্টির দোকান এবং তাদের উৎপাদনকারী কারখানাতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। গত কয়েক দিনে একাধিক মিষ্টির দোকান ও কারখানায় পরিদর্শন চালান প্রশাসনের আধিকারিকরা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং নিম্নমানের খাবার তৈরির অভিযোগে একটি মিষ্টির কারখানাও সিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হিল কার্ট রোডে নামী হোটেলে সারপ্রাইজ ভিজিট
এদিনও সারপ্রাইজ ভিজিটের অংশ হিসেবে হিল কার্ট রোডের একটি নামকরা হোটেলে অভিযান চালান প্রশাসনের আধিকারিকরা। সেখানে খাবারের গুণগতমান, রান্নাঘরের পরিবেশ এবং খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হয়। তবে এদিনের পরিদর্শনে উল্লেখযোগ্য কোনও অসংগতি ধরা পড়েনি বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
আগামী দিনেও চলবে আকস্মিক অভিযান
পৌরনিগমের খাদ্য বিভাগ ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান ও খাদ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের আকস্মিক অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই খাদ্যের গুণগতমান ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।
শহরবাসীর একাংশের মতে, প্রশাসনের এই লাগাতার নজরদারি ও কড়া পদক্ষেপের ফলে খাদ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।