শিলিগুড়ি, ১০ জানুয়ারি: ডাবগ্রাম–ফুলবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’। শনিবার ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন ঢাকেশ্বরী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, ডাবগ্রাম–ফুলবাড়ীর বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জী, শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ, জলপাইগুড়ি জেলার সাংসদ জয়ন্ত রায়, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার জেলা সভাপতি-সহ একাধিক রাজ্য ও জেলা স্তরের নেতৃত্ব এবং বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক।
জনসভা মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “২৬ সালই ডেডলাইন। পরিবর্তন হবেই।”
জেলা নেতৃত্বদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। চুরি, ডাকাতি ও গুন্ডামির অভিযোগ তুলে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও বিরোধী দলের কর্মীদের কোনও সুরক্ষা নেই বলেও অভিযোগ করা হয়। আই-প্যাক প্রসঙ্গ টেনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন নেতারা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জিডিপি কমে যাওয়া, শিল্প ও কৃষির অবনতি, শিল্পপতিদের রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া এবং উত্তরবঙ্গের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তোলা হয়। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের নামে প্রকল্পের টাকা ঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি নেতৃত্ব।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে কটাক্ষ করে বক্তারা বলেন, বুথভিত্তিক লিড দেওয়ার নির্দেশ, বিরোধী সভার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং রাজনৈতিক ভাষার অবনমন রাজ্যের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও আচরণ নিয়েও একাধিক কটাক্ষ করা হয়।
ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের দাবি তুলে বক্তারা বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার লিস্টে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সিএএ-র ফর্ম পূরণ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, অর্কিড পাচার-সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। বিধানসভা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
সমগ্র সভা জুড়ে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্যে ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ডাকই ছিল মূল সুর।