শিলিগুড়ি,২২ নভেম্বর: শিলিগুড়ির দক্ষিণ শান্তি নগর বিনয় মোর এলাকায় আত্মহত্যা করলেন এক যুবক। মৃতের নাম সঞ্জয় দাস। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারেই শেষ পর্যন্ত ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে সঞ্জয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয় সঞ্জয়ের, এলাকারই বাসিন্দা সম্পা রায়ের সঙ্গে। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই দাম্পত্যে অশান্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় বাড়ি ছেড়ে এলাকাতেই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তারা। তবে সেখানেও প্রতিনিয়ত ঝামেলা লেগেই থাকত বলে অভিযোগ।
পরিবারের আরও দাবি, সঞ্জয়কে প্রায়ই গিয়ে হুমকি দিত ও মারধর করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে শনিবার ভাড়া বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ডাকা ডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। সেখানে সঞ্জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। পড়ে আসিঘর ফাঁড়ির পুলিশ পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে সঞ্জয় একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে—স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ভাড়া বাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রতিনিয়ত ঝামেলা হতো। সম্প্রতি স্ত্রী সম্পা রায়ের মোবাইলে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অশ্লীল ছবি দেখতে পান সঞ্জয়। এরপরই পরকীয়ার অভিযোগে দাম্পত্য আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আশিঘর ফাঁড়িতে জমায়েত হন। পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তারা।
অন্যদিকে, ঘটনার পর মৃতের স্ত্রী, শালা, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ।