শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজো ও ছটপুজোতেও নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের সুবিধাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। শিলিগুড়ি পুরনিগমে আয়োজিত পুজো সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থেকে তিনি পুজো উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের আধিকারিকদের একাধিক বিষয়ে সতর্ক করেন।
মন্ত্রী বলেন, কালীপুজোর সময় শহরে কোনও ভিআইপি রাস্তার ব্যবস্থা রাখা উচিত নয়। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্গাপুজোর সময় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যেভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, আগামী পুজোগুলিতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আবেদন জানান তিনি।
পুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, মণ্ডপের মঞ্চ বা কাঠামো কতটা মজবুত, তা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। তাই অতিরিক্ত দর্শনার্থীর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভিড় বাড়ানো বা পুজোর আকর্ষণ বৃদ্ধি করতে গিয়ে কোনওভাবেই মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না। পাশাপাশি ডিজে বাজানো বন্ধ রাখার নিয়মও আগামী দিনেও কঠোরভাবে মেনে চলার আবেদন জানান তিনি।
এছাড়াও নির্ধারিত সময়ের পরেও যেসব পুজো কমিটি রাস্তার উপর গেট বা প্যান্ডেল খুলে রাখেনি, তাদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন মন্ত্রী। আগামী বছর পুজোর অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলির কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শহরে পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি পুজো কমিটিগুলির কাছে বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি লিখিতভাবে জমা দেওয়ার আবেদন জানান। নির্বাচিত পুরবোর্ড গঠনের পর সেই দাবিগুলি নিয়ে পরিকল্পনামাফিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন।
ছটপুজোর ঘাটের পরিকাঠামো নিয়েও বক্তব্য রাখেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, বিরোধী বিধায়ক থাকাকালীন ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি ঘাট নির্মাণের জন্য বিধায়ক তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু সেই কাজ বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সরকারি দলের বিধায়ক হিসেবে সংশ্লিষ্ট কাজগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আরও বেশি সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যের শেষদিকে সরকারি আয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যেতে সরকারের আয় বাড়ানো জরুরি। তাই শহরের সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।