পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় বাড়ানো ও সরকারি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিলেন দিলীপ ঘোষ
শিলিগুড়ি, ৩০ অক্টোবর: গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের সম্মানিক বৃদ্ধি, পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়ানো এবং গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আগামী দিনে গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের সম্মানিক আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে বিভিন্ন গ্রামে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের উত্তরবঙ্গ সমাবেশে যোগ দিয়ে এই বার্তা দেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক।
সম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস, কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বার্তা : সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীদের সম্মানিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী দিনেও তাঁদের সম্মানিক আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে শুধু সম্মানিক বৃদ্ধি নয়, কর্মীদের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পাঁচ মাসে গ্রামে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ : গ্রামীণ পরিকাঠামো ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আগামী পাঁচ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন গ্রামে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। পাশাপাশি জিরামজি প্রকল্পের কাজের গতিও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উপর জোর : পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক ভিত মজবুত করতে নিজস্ব আয়ের উৎস বাড়ানোর উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ বাড়ানো গেলে পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে উন্নয়নের কাজ আরও সহজ হবে। কর্মীদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করলে সরকারও তাঁদের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করবে। সরকার ও কর্মীদের যৌথ উদ্যোগেই গ্রামীণ উন্নয়ন সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আবাস যোজনায় ৫৫ লক্ষ আবেদন, যাচাইয়ের পর বাদ পড়বে ভুয়ো আবেদন : অন্যদিকে, আবাস যোজনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে প্রায় ৫৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তবে তাঁর দাবি, জমা পড়া আবেদনগুলির মধ্যে অনেক ভুয়ো আবেদন রয়েছে। সেগুলি যথাযথভাবে যাচাই করে বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় কর্মীর অভাব দূর করতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের স্বার্থরক্ষা, পঞ্চায়েতের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যেই উত্তরবঙ্গের এই সমাবেশ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।