শিলিগুড়ি: পুরনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার বিপুল পরিমাণ বাতিল নোট নিয়ে ট্রেনে যাতায়াতের সময় এক যুবককে গ্রেফতার করল শিলিগুড়ি জিআরপি ও এনজেপি জিআরপি। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে তল্লাশি চালিয়ে ওই যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার বাতিল নোট।
ধৃত যুবকের নাম সন্তোষ কুমার, বয়স ২৫ বছর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষের বাড়ি বিহারের মতিহারী এলাকায়। তবে গত প্রায় সাত বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে অসমের জালুকবাড়ি এলাকায় বসবাস করছিল সে।
গোপন সূত্রে খবর, NJP-তে পুলিশের অভিযান
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে যে বিপুল পরিমাণ পুরনো বাতিল নোট নিয়ে এক যুবক ট্রেনে যাতায়াত করছে। সেই খবরের ভিত্তিতে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে অভিযান চালায় শিলিগুড়ি জিআরপির এসওজি এবং এনজেপি জিআরপির সাদা পোশাকের পুলিশ।
ডাউন সরাইঘাট এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছতেই শুরু হয় তল্লাশি। ট্রেনের জেনারেল কামরায় তল্লাশি চালানোর সময় সন্তোষ কুমারকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেন পুলিশকর্মীরা।
কথাবার্তায় অসঙ্গতি, বাড়ে সন্দেহ
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্তোষের কথাবার্তায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়।
ব্যাগ খুলতেই পুলিশের চোখে পড়ে পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার একাধিক বান্ডিল। নোটগুলি গুনে দেখা যায়, বাতিল নোটের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা।
এরপরই সন্তোষ কুমারকে গ্রেফতার করা হয়।
গুয়াহাটি থেকে উঠেছিল ট্রেনে!
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, গুয়াহাটি থেকেই ট্রেনে উঠেছিল সন্তোষ। পুলিশের দাবি, সেখানেই তার হাতে ওই বাতিল নোটের বান্ডিলগুলি তুলে দেওয়া হয়।
এরপর সেই টাকা নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার উদ্দেশ্যেই সে ট্রেনে রওনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
টাকার উৎস নিয়ে তদন্তে পুলিশ
এত বিপুল পরিমাণ বাতিল নোট কোথা থেকে এল, কার কাছ থেকে সন্তোষ ওই টাকা পেয়েছিল এবং কোথায় তা নিয়ে যাচ্ছিল, এখন সেটাই তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন।
শনিবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, বাতিল নোট পাচারের পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না—সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হওয়ার বহু বছর পরেও এত বিপুল পরিমাণ বাতিল নোট উদ্ধার ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তদন্ত এগোলে এই নোটের আসল উৎস এবং এর পিছনে থাকা চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।