আদালতের সামনে পরিবারের বিক্ষোভ, দ্রুত বিচার ও দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি
শিলিগুড়ি, ৩ সেপ্টেম্বর: সেবক রোডে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় যুবক শংকর ছেত্রীর মৃত্যুর প্রায় ছয় থেকে সাত মাস কেটে গেলেও এখনও ন্যায়বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবিতে বৃহস্পতিবার আদালতের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন মৃত যুবকের পরিবারের সদস্য, পরিজন ও পরিচিতরা। তাঁদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ এবং CCTV ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে না।
দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে গভীর রাতে শিলিগুড়ির সেবক রোডে ভক্তিনগর দিক থেকে পানিট্যাঙ্কির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন শংকর ছেত্রী ও কাজল রায়। সেই সময় একটি দ্রুতগতির সাদা গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। ধাক্কার তীব্রতায় দু’জনেই প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত দু’জনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক শংকর ছেত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর জখম হন কাজল রায়। মৃত শংকরের বাড়ি খড়িবাড়ি এলাকায় বলে জানা গিয়েছে।
CCTV ও প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে তদন্ত
ঘটনার পর অভিযুক্ত গাড়ি ও চালকের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে CCTV ফুটেজ, গাড়ির নম্বর এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সূত্রেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তবে পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পরও প্রায় ছয় থেকে সাত মাস কেটে গেলেও তাঁরা এখনও ন্যায়বিচার পাননি। তাঁদের প্রশ্ন, দুর্ঘটনার CCTV ফুটেজ-সহ একাধিক তথ্য-প্রমাণ পুলিশের হাতে থাকার পরেও বিচারপ্রক্রিয়া এতটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে কেন?
আদালতের সামনে পরিবারের বিক্ষোভ
এই দাবিতেই বৃহস্পতিবার আদালতের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন শংকর ছেত্রীর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত ঘটনা দ্রুত আদালতের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে শংকরের পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে হবে।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন দুর্ঘটনার রাতে শংকরের সঙ্গে থাকা কাজল রায়ও। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি ঘটনার সাক্ষী হিসেবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার না মেলায় এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা।
দ্রুত বিচারেই আশায় পরিবার
শংকর ছেত্রীর পরিবারের বক্তব্য, প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও কাটেনি। তার উপর বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা তাঁদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করছে। তাই দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারের আশা, আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।