১০২ বছর বয়সে হিপ ফ্র্যাকচারের সফল অস্ত্রোপচার, হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি জয় করে সুস্থ প্রবীণা
EF মাত্র ৩৫ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও সফল সার্জারি ম্যানিপাল হসপিটালস, শিলিগুড়িতে; চার দিন পরই হাসপাতাল থেকে ছুটি
শিলিগুড়ি, ৪ সেপ্টেম্বর:
১০২ বছর বয়সে হিপ ফ্র্যাকচারের মতো জটিল সমস্যায় আক্রান্ত এক প্রবীণ মহিলার সফল অস্ত্রোপচার করে উল্লেখযোগ্য নজির তৈরি করল ম্যানিপাল হসপিটালস, শিলিগুড়ি। রোগীর বয়সের পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতাও কম থাকায় অস্ত্রোপচার এবং অ্যানেস্থেশিয়া—উভয় ক্ষেত্রেই ছিল যথেষ্ট ঝুঁকি। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে সম্পন্ন হয় অস্ত্রোপচার। চিকিৎসার পর মাত্র চার দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয় ১০২ বছর বয়সী ওই রোগীকে।
হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কম, তবুও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত
জানা গিয়েছে, হিপ ফ্র্যাকচারের কারণে ওই প্রবীণ রোগীর স্বাভাবিক চলাফেরা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর ইজেকশন ফ্র্যাকশন বা EF ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। ফলে অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রজনিত জটিলতার আশঙ্কা ছিল যথেষ্ট বেশি। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা এবং অ্যানেস্থেশিয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের মতে, এই বয়সে দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী হয়ে থাকলে সংক্রমণ, শারীরিক দুর্বলতা-সহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই কারণেই ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সুবিধা বিবেচনা করে দ্রুত ফ্র্যাকচার স্থিতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ কেসে চিকিৎসকদের সমন্বিত পরিকল্পনা
অর্থোপেডিক সার্জন ডা. পঙ্কজ কুমার জানান, ১০২ বছর বয়স, হিপ ফ্র্যাকচার এবং মাত্র ৩৫ শতাংশ EF—সব মিলিয়ে এটি ছিল অত্যন্ত উচ্চঝুঁকির একটি কেস। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল ফ্র্যাকচারটি স্থিতিশীল করা এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে পুনরায় চলাফেরার উপযোগী করে তোলা।
অ্যানেস্থেশিয়ায় বিশেষ সতর্কতা
ম্যানিপাল হসপিটালস, শিলিগুড়ির অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. টিকা নাথ শর্মা জানান, রোগীর হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি বেশি থাকায় অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে বিস্তারিত প্রি-অপারেটিভ মূল্যায়নের পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের অবস্থার কথা মাথায় রেখে অ্যানেস্থেশিয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় এবং পরবর্তী পর্যায়েও রোগীর গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরিমাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত শুরু পুনর্বাসন
অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার সন্তোষজনক উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। তিনি নিজে উঠে বসতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় হাঁটাচলাও শুরু করেন তিনি। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় অস্ত্রোপচারের মাত্র চার দিন পরই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রবীণদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব
চিকিৎসকদের মতে, অত্যন্ত প্রবীণ রোগীদের ক্ষেত্রে হিপ ফ্র্যাকচারের দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকলে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রোপচার নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থোপেডিক, অ্যানেস্থেশিয়া এবং পুনর্বাসন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১০২ বছর বয়সী এই রোগীর ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সফল অস্ত্রোপচার, দ্রুত পুনর্বাসন এবং মাত্র চার দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছুটি—চিকিৎসকদের সমন্বিত ও পরিকল্পিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।