শিলিগুড়ি, ১০ জানুয়ারী : শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের রাজেন্দ্র নগর এলাকায় দিন-দুপুরে একটি ডাম্পারের ধাক্কায় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল উদিত ঝা নামে এক নাবালকের। মৃতের বয়স আনুমানিক ১৪ বছর ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা আগে সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল উদিত। সেই সময়ই একটি বেপরোয়া গতির ডাম্পারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় সে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন মৃত বালকের পরিবার-পরিজনরা।
মৃত উদিত ঝা শিলিগুড়ি দেশবন্ধু হিন্দি হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সে ছিল অত্যন্ত পারদর্শী। স্কুল ও এলাকার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রায়শই প্রথম স্থান অধিকার করত বলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি।
মৃত শিশুটির দাদা অঙ্কিত ঝা জানান,
“ছোটবেলাতেই আমাদের মা মারা যান। এরপর কাকা-কাকি, বাবা ও দাদু-ঠামার সঙ্গেই আমরা বড় হয়েছি। ভাই খেলাধুলায় খুব ভালো ছিল, সবকিছুতেই প্রায় প্রথম হতো। এমন একটি দুর্ঘটনা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”
এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠছে— রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারংবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও দিনের বেলায় কীভাবে পুলিশের চোখের সামনে অবৈধভাবে বালি-পাথর বোঝাই ডাম্পার শহরের রাস্তায় চলাচল করছে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পাথর বোঝাই ওই ডাম্পারটি আটক করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, দিনের আলোতে অবৈধভাবে ভারী যানবাহন কীভাবে শহরের ভিতর দিয়ে চলাচল করছে? ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।