শিশু-কিশোরদের উচ্চতা ও বৃদ্ধির সমস্যা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ
শিলিগুড়ি, ২৩ সেপ্টেম্বর: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উচ্চতা ও শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার দ্রুত শনাক্তকরণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার লক্ষ্যে শিলিগুড়িতে প্রথমবারের মতো ‘হাইট ক্লিনিক’ চালু করল মণিপাল হাসপাতাল শিলিগুড়ি। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ও কিশোরদের জন্য এই বিশেষ ক্লিনিকে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও এন্ডোক্রিনোলজি বিশেষজ্ঞের যৌথ পরামর্শের ব্যবস্থা থাকছে।
এক ছাতার নিচে পেডিয়াট্রিক ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞ
হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক সময় বয়স অনুযায়ী সন্তানের উচ্চতা বা বৃদ্ধি প্রত্যাশিত হারে না হলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই ধরনের সমস্যার কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকটিতে সমন্বিত পরিষেবা দেওয়া হবে।
ক্লিনিকটির নেতৃত্ব দেবেন ডা. অজিত ছেত্রী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট—পেডিয়াট্রিক্স, এবং ডা. আনন্দ মোহন চক্রবর্তী, কনসালট্যান্ট—এন্ডোক্রিনোলজিস্ট। তাঁরা শিশুদের বৃদ্ধির সমস্যা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পরবর্তী পরীক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।
উচ্চতা মাপার পাশাপাশি হবে বিস্তারিত মূল্যায়ন
হাইট ক্লিনিকে শিশুদের উচ্চতা ও ওজন মাপা, বৃদ্ধির গতি বা Growth Velocity পর্যবেক্ষণ এবং Bone Age মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোনজনিত সমস্যা, অন্যান্য শারীরিক কারণ কিংবা জেনেটিক কারণ চিহ্নিত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হতে পারে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট বয়সে শিশুর উচ্চতা কম বা বেশি হওয়া দিয়ে তার বৃদ্ধির সম্পূর্ণ চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে শিশুর বৃদ্ধি কতটা হচ্ছে, সেই গতিও গুরুত্বপূর্ণ।
কোন ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনও শিশু যদি সমবয়সীদের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে খাটো হয়, হঠাৎ করে বৃদ্ধির গতি কমে যায়, অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, বয়স অনুযায়ী বয়ঃসন্ধি শুরু না হয় অথবা বয়স অনুযায়ী প্রত্যাশিত উচ্চতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হরমোনের ঘাটতি, পারিবারিকভাবে খাটো উচ্চতা, বিলম্বিত বৃদ্ধি ও বয়ঃসন্ধি, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা কিংবা জেনেটিক সমস্যার মতো বিভিন্ন কারণে বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সোমবার থেকে শনিবার পরিষেবা
মণিপাল হাসপাতাল শিলিগুড়ির এই বিশেষ হাইট ক্লিনিক সোমবার থেকে শনিবার, বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চালু থাকবে। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা এই পরিষেবার আওতায় আসতে পারবে।
হাসপাতালের বক্তব্য, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের বৃদ্ধিজনিত সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।