শিশুর শারীরিক অসুস্থতা ও ভয়ের কথা জানাজানি হতেই প্রকাশ্যে আসে ঘটনা, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি মায়ের
শিলিগুড়ি, ৭ নভেম্বর: চার বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়ি সংলগ্ন নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থানা এলাকায়। নিজের নাবালিকা কন্যার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এনজেপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির মা। অভিযোগের ভিত্তিতে যোগেশ রায় নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।
এক সপ্তাহ ধরে পেট ও তলপেটে ব্যথার অভিযোগ
অভিযোগকারিণীর দাবি, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শিশুটি পেট ও তলপেটে ব্যথার কথা জানাচ্ছিল। পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই কান্নাকাটি করছিল সে। বিষয়টি নিয়ে মায়ের বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুটি ‘মেসো’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে। ওই ব্যক্তিই তাকে কষ্ট দিয়েছে বলে শিশুটি জানায়। চার বছরের শিশুর মুখে এমন কথা শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা।
অভিযুক্তকে দেখে ভয়ে কান্নাকাটি শিশুর
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা প্রায় সাতটা নাগাদ মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় মোর বাজারে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেখতে পায় শিশুটি। তাঁকে দেখামাত্রই ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে এবং মাকে জড়িয়ে ধরে। শিশুটির এমন আচরণে মায়ের সন্দেহ আরও গভীর হয়।
প্রশ্ন করতেই বচসা, মারধরের অভিযোগ
অভিযোগ, পরদিন রাত প্রায় ৯টা নাগাদ সূর্যসেন কলোনির বাল্মীকি মাঠের কাছে যোগেশ রায়ের মুখোমুখি হন শিশুটির মা। মেয়ের শারীরিক সমস্যা ও তার মুখে উঠে আসা কথাগুলি নিয়ে অভিযুক্তকে প্রশ্ন করতেই তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ‘কোডু’ ডাকনামের আরও এক ব্যক্তি অভিযোগকারিণী ও তাঁর শিশুকন্যাকে ধাক্কা দেন বলেও অভিযোগ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায় এবং শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, এরপর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে মারধর করেন। খবর পেয়ে এনজেপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যোগেশ রায়কে আটক করে।
থানায় বিজেপি যুব মোর্চার নেতা
ঘটনার খবর পেয়ে থানায় পৌঁছান বিজেপির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ৩ নম্বর মণ্ডল যুব মোর্চার সভাপতি শ্যামল বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, “অত্যন্ত ঘৃণ্য একটি ঘটনা। পুলিশের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি বিষয়টি তদন্তের উপর নির্ভর করছে।”
পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশুটির মা। মেয়ের সুরক্ষা, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং শিশুটির শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।