শিলিগুড়িতে দুই নামী মিষ্টির দোকানে যৌথ অভিযান
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও পুরনিগমের নজরদারি, এক কারখানায় মিলল পুরনো খাবার ও ইঁদুর-আরশোলার উপদ্রব
শিলিগুড়ি, ৩১ আগস্ট: শহরের বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যৌথ অভিযানে নামল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও শিলিগুড়ি পুরনিগম। শহরের সেবক রোডের বিশাল সিনেমা হল সংলগ্ন একটি নামী মিষ্টির দোকান এবং চার্চ রোড এলাকার অপর একটি মিষ্টির দোকানের কারখানায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও পুরনিগমের আধিকারিকদের পাশাপাশি দমকল এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দোকানে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েনি
অভিযানের শুরুতে বিশাল মোর এলাকায় অবস্থিত মিষ্টির দোকানটিতে পৌঁছন আধিকারিকরা। সেখানে রান্নাঘর, খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং দোকানের অন্যান্য পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিদর্শনের সময় রান্নাঘরে বড় ধরনের কোনও অনিয়ম নজরে আসেনি। দোকান কর্তৃপক্ষের তরফে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্রও আধিকারিকদের সামনে পেশ করা হয়।
তবে কয়েকটি প্রয়োজনীয় নথি সেই সময় দেখাতে না পারায় সেগুলি আগামী সাত দিনের মধ্যে শিলিগুড়ি পুরনিগমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দোকান থেকে বেশ কয়েকটি খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সেই নমুনা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান।
চার্চ রোডের কারখানায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ
এরপর যৌথ অভিযানের দল চার্চ রোড এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের কারখানায় পৌঁছয়। সেখানে পরিদর্শনের সময় একাধিক অনিয়ম নজরে আসে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। কারখানায় বেশ কিছু পুরনো খাদ্যসামগ্রী দেখতে পান আধিকারিকরা। সেগুলি তাৎক্ষণিকভাবে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ওই খাবারগুলি সরিয়ে ফেলা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে আসে কারখানার খাদ্যসামগ্রী মজুত রাখার ঘরের পরিবেশ। সেখানে ইঁদুর ও আরশোলার উপদ্রব নজরে পড়ে বলে জানা গিয়েছে। খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিককে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে সতর্ক প্রশাসন
অভিযানের সময় কারখানার কয়েকটি অংশে অপরিষ্কার পরিবেশও নজরে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য দোকান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
ভবিষ্যতেও চলবে নজরদারি
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শহরের বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। খাদ্যের গুণগত মান, স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্যসামগ্রী সঠিক পরিবেশে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না—সেই বিষয়গুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চললে খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষও আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পেতে পারবেন।