হাতাহাতি ও মারধরের অভিযোগ, পাল্টা অস্বীকার এবিভিপির—পুলিশের দাবি, হামলার প্রমাণ মেলেনি
শিলিগুড়ি, ২ সেপ্টেম্বর: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথম বর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন কাউন্সিলিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। বুধবার কলেজের লেকচার থিয়েটার–১-এ কাউন্সিলিং চলার সময় হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
হেল্পডেস্কে হামলার অভিযোগ
অভিযোগ, নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তার জন্য এআইডিএসও-র পক্ষ থেকে তৈরি করা হেল্পডেস্কে উপস্থিত ইন্টার্ন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে বহিরাগত এবিভিপি সদস্যরা দুর্ব্যবহার ও মারধর করেন। এআইডিএসও-র অভিযোগ, কয়েকজন আচমকাই কাউন্সিলিং হলের ভিতরে ঢুকে প্রথমে হুমকি দেন এবং পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি মোবাইল ফোন ও স্টেথোস্কোপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার জেরে কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
‘নবাগতদের সাহায্য করতে গিয়ে আক্রান্ত’—এআইডিএসও
এআইডিএসও-র সম্পাদক তথা ইন্টার্ন ডঃ হিরণ্ময় রায়ের অভিযোগ, নবাগত পড়ুয়াদের সহায়তা করতে গিয়েই তাঁদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, মহিলা ইন্টার্নদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও স্টেথোস্কোপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
ইন্টার্ন ডঃ পৌশালী পাত্রও ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাঁরা পুলিশকে ফোন করার সুযোগ পর্যন্ত পাননি।
‘অনুমতি ছাড়াই ভিড়’—পাল্টা দাবি এবিভিপির
অন্যদিকে, এআইডিএসও-র সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। এবিভিপি কর্মী অভিজিৎ রায়ের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কয়েকজন ছাত্র প্রশাসনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই কিছু ব্যক্তি কাউন্সিলিং প্রক্রিয়ার মধ্যে ভিড় করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তাঁর দাবি, যাঁদের বৈধ পরিচয়পত্র ছিল না, তাঁদের পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেয়।
‘হামলার প্রমাণ মেলেনি’—পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়ে মেডিকেল ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভর্তি প্রক্রিয়াও স্বাভাবিকভাবে চলছে। তাঁর বক্তব্য, বহিরাগতদের হামলার কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
অধ্যক্ষের নীরবতা, স্বাভাবিক ভর্তি প্রক্রিয়া
ঘটনার বিষয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সুজয় মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে উত্তেজনা তৈরি হলেও আপাতত কলেজে প্রথম বর্ষের ভর্তি ও কাউন্সিলিং প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কাউন্সিলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে এমন অভিযোগ ঘিরে কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পুলিশি তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।