শিলিগুড়ি, ২৮ জুন: দীর্ঘদিনের জলমগ্ন পরিস্থিতি থেকে অবশেষে স্বস্তি ফিরল শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন ক্ষুদিরাম পল্লী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করার পর দ্রুত নেমে যেতে শুরু করেছে জমে থাকা জল।
কয়েকদিন আগে এলাকার জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে যান ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জি। পরিদর্শনের সময় তিনি দেখতে পান, ইস্টার্ন বাইপাসের পাশ দিয়ে ড্রেন থাকলেও একটি দোকানের অবৈধ নির্মাণের কারণে জল নিষ্কাশনের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই দ্রুত অবৈধ অংশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রবিবার সেই নির্দেশ অনুযায়ী স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও এলাকাবাসীদের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট দোকানের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ড্রেনের ভিতরে জমে থাকা আবর্জনা ও পলি পরিষ্কার করা হয়, যাতে বৃষ্টির জল দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে।
এর ফলও মেলে দ্রুত। অবৈধ নির্মাণ সরানোর পর ড্রেন দিয়ে জলের প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষুদিরাম পল্লী এলাকার জমে থাকা জল অনেকটাই নেমে যায়। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে জলাবদ্ধতার জেরে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল। বাসিন্দাদের আশা, জল সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার পর খুব শীঘ্রই বিদ্যুৎ পরিষেবাও স্বাভাবিক হবে।
অবৈধ নির্মাণ অপসারণের সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল আশিঘর ফাঁড়ি পুলিশ এবং আশিঘর সাব-ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীরা। তাঁদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবেই পুরো কাজ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ত। অবশেষে প্রশাসনিক উদ্যোগে সেই সমস্যা দূর হওয়ায় ক্ষুদিরাম পল্লী এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। বাসিন্দাদের আশা, ভবিষ্যতেও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও নজরদারি বজায় থাকলে এ ধরনের জলাবদ্ধতার সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে না।