শিলিগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা: এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে অপরিচিত কারও সাহায্য নেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন। সামান্য অসাবধানতায় মুহূর্তে খালি হয়ে যেতে পারে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। এমনই এক এটিএম জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল মেডিক্যাল আউটপোস্ট পুলিশ।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে নেমে চক্রের এক সদস্য জগন্নাথ ঘোরামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের বাড়ি বারুইপুরে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৯টি জাল এটিএম কার্ড।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা এটিএমে টাকা তুলতে আসা মানুষদের টার্গেট করত। প্রথমে এটিএম মেশিনের কিছু বোতাম বিকল করে দেওয়া হতো। পরে কেউ সমস্যায় পড়লে ‘সাহায্য’ করার নাম করে চক্রের সদস্যরা এগিয়ে আসত।
সুযোগ বুঝে গ্রাহকের আসল এটিএম কার্ড নিয়ে তার বদলে জাল কার্ড ধরিয়ে দেওয়া হতো। ভুক্তভোগী তখনও বুঝতেই পারতেন না যে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে।
সোমবার রাতে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মুক্তার হোসেন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএমে টাকা তুলতে যান। তিনি জানান, মেশিনের ‘০’ নম্বর বোতাম কাজ করছিল না। সেই সময় জগন্নাথ ঘোরামী সাহায্যের অজুহাতে ভিতরে ঢুকে তাঁকে কথায় ব্যস্ত রেখে আসল কার্ডটি বদলে দেয়।
কিছুক্ষণ পরে মোবাইলে ব্যাংকের বার্তা পেয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৬ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর কার্ড পরীক্ষা করে দেখেন, তাঁর কাছে থাকা কার্ডটি আসল নয়। সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল আউটপোস্টে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ খবর পায়, জালিয়াত চক্রটি আবারও কদমতলা বিএসএফ মোড় সংলগ্ন একটি এটিএমের কাছে সক্রিয় রয়েছে। অভিযান চালিয়ে পুলিশ জগন্নাথকে গ্রেফতার করে। যদিও তার কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ধৃতের কাছ থেকে ১৯টি জাল এটিএম কার্ড উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই সে এই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটনের এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানান, এটিএম জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে ১৯টি জাল এটিএম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।