নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ডিজিটাল প্রযুক্তির হাত ধরে দ্রুত বদলাচ্ছে পর্যটন শিল্প। পর্যটন গন্তব্য বাছাই থেকে হোটেল বা হোমস্টে বুকিং—সব ক্ষেত্রেই এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়া। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাহাড় ও গ্রামীণ এলাকার ছোট হোমস্টেগুলিকে এগিয়ে নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটালেই গন্তব্যের খোঁজ
একসময় ভ্রমণ সংক্রান্ত বই বা পরিচিতজনের পরামর্শের উপর নির্ভর করতেন পর্যটকরা। এখন সেই জায়গা নিয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, অনলাইন পোর্টাল এবং ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সারদের তৈরি কনটেন্ট। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার হোমস্টেগুলিও ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের পরিষেবা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ‘ডিজি যাত্রা’র মতো প্রযুক্তি যাত্রীদের প্রক্রিয়া সহজ করেছে।
কালিম্পংয়ে ২২০০, দার্জিলিংয়ে ৫৫০
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের দাবি, কালিম্পং জেলায় সরকারি ভাবে নিবন্ধিত হোমস্টের সংখ্যা প্রায় ২,২০০। দার্জিলিংয়ে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিবন্ধিত হোমস্টের সংখ্যা তুলনামূলক কম, প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০। তবে নথিভুক্তির বাইরে আরও বহু হোমস্টে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য।
AI-তে প্রচারের নতুন সুযোগ
নিমবং, বাগরাকোটের মতো প্রত্যন্ত এলাকার বহু হোমস্টে মালিক এখনও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে পিছিয়ে। তাঁদের জন্য AI-নির্ভর প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। AI ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও তৈরি, ভয়েসওভার সংযোজন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালানো সম্ভব হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা সদস্য ও নন-মেম্বারদের জন্য তাই বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১৬ বিভাগে পুরস্কার
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ১৬টি বিভাগে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হবে। লাক্সারি ও স্ট্যান্ডার্ড হোটেলের পাশাপাশি টেকসই পর্যটন গন্তব্য, পরিবহন পরিষেবা এবং চালকদেরও পুরস্কৃত করা হবে। প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলা অঞ্চলগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের পক্ষে উপদেষ্টা শুভাশিস চক্রবর্তী-সহ সংগঠনের প্রতিনিধিরা আগামীকালের অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠানে মূলত ডিজিটাল রূপান্তর, AI, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই পর্যটন—এই চারটি বিষয়ই গুরুত্ব পেতে চলেছে।