জটিল চোয়াল পুনর্গঠনে নজিরবিহীন সাফল্য
উত্তরবঙ্গে আধুনিক ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারির ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল আর্তেমিসিয়া সার্জারি ক্লিনিক অ্যান্ড মাল্টিস্পেশালিটি হেলথ কেয়ার। সম্প্রতি সেখানে একটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং চোয়াল পুনর্গঠন অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা পরিকাঠামোর অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
টিউমার আক্রান্ত চোয়াল অপসারণ, আধুনিক প্রযুক্তিতে পুনর্গঠন
চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, এক রোগীর নিচের চোয়ালের (ম্যান্ডিবল) বাঁ দিকে একটি টিউমার ধরা পড়ে। রোগমুক্ত করতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আক্রান্ত অংশটি সম্পূর্ণভাবে কেটে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোগীর চোয়ালের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা ‘পেশেন্ট-স্পেসিফিক ইমপ্ল্যান্ট’ এবং কৃত্রিম চোয়াল (প্রোস্থেটিক জ) ব্যবহার করে পুনর্গঠন করা হয়।
টানা ১০ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার, চিকিৎসক দলের নিখুঁত সমন্বয়
অত্যন্ত জটিল এই অস্ত্রোপচারটি প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলে। সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে সার্জিক্যাল টিম, প্রোস্থেটিক বিশেষজ্ঞ, রিহ্যাবিলিটেশন দল, অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটারের কর্মীদের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় ও দলগত প্রচেষ্টা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্রুত সুস্থতা, তিন দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি
চিকিৎসকদের মতে, এত বড় অস্ত্রোপচারের পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। অপারেশনের প্রথম দিন থেকেই রোগী মুখ খুলতে সক্ষম হন। পাশাপাশি জিভের কার্যক্ষমতা এবং কথা বলার ক্ষমতাও ফিরে আসে। আশাব্যঞ্জক এই অগ্রগতির ফলে অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।
উত্তরবঙ্গের চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফল অস্ত্রোপচার উত্তরবঙ্গে উন্নত চোয়াল পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার এবং আধুনিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তি এখন উত্তরবঙ্গেই সফলভাবে উপলব্ধ।
এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে আর্তেমিসিয়া সার্জারি ক্লিনিক অ্যান্ড মাল্টিস্পেশালিটি হেলথ কেয়ারের কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রোস্থেটিক ও রিহ্যাবিলিটেশন দল এবং ওটি স্টাফদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই নজিরবিহীন সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। চিকিৎসাক্ষেত্রে এই অর্জন সমগ্র উত্তরবঙ্গের জন্য গর্বের এবং ভবিষ্যতের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত