শিলিগুড়ি,২৯ ডিসেম্বর: মদের আসরে চাখনা নিয়ে বিবাদ থেকেই ঠাকুরনগরে চরম অশান্তির ঘটনা। এই ঘটনায় দু’জনের মাথা ফেটে গুরুতর জখম হন, অন্য এক ব্যক্তিকে যেতে হয় শ্রীঘরে। ধৃতের নাম সন্তোষ হাজরা। সোমবার তাকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পাঠিয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ঠাকুরনগরের একটি ক্লাবঘরে কয়েকজন মিলে মদের আসর বসায়। সেই আসরে চাখনার ব্যবস্থা করার দায়িত্বে ছিলেন সন্তোষ হাজরা। অভিযোগ, মাছ ভাজার সময় কড়াইয়ের গরম তেল অসাবধানতাবশত অন্য এক ব্যক্তির গায়ে ছিটে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বচসা।
ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মদের আসরে উপস্থিত প্রায় ১০–১২ জন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
অভিযোগ, এরপর ক্লাবঘরেই শুরু হয় ব্যাপক মারপিট। মারধরের জেরে বেশ কয়েকজন আহত হন। রাতেই আহতদের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
এই ঘটনায় রবিবার নিউ জলপাইগুড়ি থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারী ঠাকুরনগরের বাসিন্দা প্রবীর মণ্ডল জানান, স্থানীয় সন্তোষ হাজরা, নয়ন দত্ত, চিরু সহ আরও কয়েকজন তাঁর উপর হামলা চালায়। মারপিটে প্রবীর মণ্ডলের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁর মাথায় আটটি সেলাই পড়ে।
অন্যদিকে, ধৃত সন্তোষ হাজরার স্ত্রী মানসী হাজরা প্রবীর মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীনই রবিবার রাতে সন্তোষ হাজরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে।