শিলিগুড়ি, ২০ আগস্ট: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে গিয়ে এবার চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের অ্যাডেড ওয়ার্ডের নির্মল সাথী কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর পর বহু মহিলার আবেদন বাতিল হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় ক্ষুব্ধ উপভোক্তাদের একাংশের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, তারপরও প্রশ্নের মুখে কর্মীরা
পুরনিগমের নির্দেশ অনুযায়ী অ্যাডেড ওয়ার্ডগুলিতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন নির্মল সাথীরা। তাঁদের দাবি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদন বাতিল, টাকা না পেয়ে ক্ষোভ উপভোক্তাদের
কর্মীদের অভিযোগ, পরবর্তীতে বহু মহিলার আবেদন বাতিল হয়ে যায় এবং তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা জমা পড়েনি। এর জেরে ক্ষোভ তৈরি হয় সুবিধাভোগীদের মধ্যে। আর সেই ক্ষোভের সরাসরি প্রভাব পড়ছে তথ্য যাচাইয়ের কাজে যুক্ত নির্মল সাথীদের ওপর।
‘ভুল তথ্য পাঠানোর’ অভিযোগ, উঠছে হুমকির দাবি
নির্মল সাথীদের দাবি, টাকা না পাওয়া উপভোক্তাদের একাংশ তাঁদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য পাঠানোর অভিযোগ তুলছেন। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে হুমকির মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ কর্মীদের।
‘অনুমোদন বা বাতিল আমাদের হাতে নয়’
কর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের কাজ শুধুমাত্র সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো পর্যন্ত। এরপর আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে থাকে না। কিন্তু সেই বিষয়টি না বুঝেই অনেক উপভোক্তা তাঁদের দায়ী করছেন বলে অভিযোগ।
অফিসের চাপের অভিযোগও
অন্যদিকে, কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলেও কর্পোরেশনের কিছু আধিকারিকের তরফে চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে দাবি কর্মীদের।
নিরাপত্তা ও দ্রুত সমাধানের দাবি
পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্মল সাথীরা। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের আবেদন বাতিল বা টাকা না পাওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।