দার্জিলিং, ডুধিয়া: প্রবল বর্ষণের জেরে বালাসন নদীর উপর অবস্থিত সেতু ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ি–মিরিক সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। জেলা প্রশাসনের অনুরোধে দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পস (Trishakti Corps) ডুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর ৩৪ মিটার দীর্ঘ একটি অস্থায়ী ফুট ব্রিজ স্থাপন করেছে।
এই সেতু নির্মাণের ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। পাশাপাশি ভারত-নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার পশুপতি ফাটকসহ বিভিন্ন সীমান্ত সংযোগস্থলে যাতায়াতও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্ববর্তী সেতুটি ভেসে যায়। ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেনাবাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অস্থায়ী ফুট ব্রিজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে।
শীঘ্রই চালু হবে বেইলি ব্রিজ
জেলা প্রশাসনের একই অনুরোধের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী বর্তমানে একটি বৃহত্তর বেইলি ব্রিজ (Bailey Bridge) নির্মাণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। এই সেতু চালু হলে শুধু পথচারী নয়, যানবাহনও চলাচল করতে পারবে। এর ফলে শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধার হবে এবং পর্যটকদের যাতায়াতও বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্থায়ী ফুট ব্রিজটির স্থায়িত্ব ও নিরাপদ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেতুর কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এক সেনা আধিকারিক বলেন, “প্রয়োজনের সময়ে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের পাশে দাঁড়ানো ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব। এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে, পর্যটন খাত উপকৃত হবে এবং স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এলাকার মানুষ স্বস্তি পাবেন।”
সেনা-প্রশাসন-জনতার সমন্বয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
এই উদ্যোগকে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্যোগের সময় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা এলাকাবাসীর কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।