মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দিরের অনুকরণে মণ্ডপ, বিশেষ আকর্ষণ নিজস্ব থিম সং
শিলিগুড়ি: দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্রাবিড় স্থাপত্যশৈলী, পৌরাণিক কাহিনি এবং নিজস্ব থিম সংয়ের মেলবন্ধনে এবারের দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের বিশেষ চমক দিতে চলেছে শিলিগুড়ির জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগার। তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের বিখ্যাত মীনাক্ষী আম্মান মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে এবারের পুজোমণ্ডপ। সূক্ষ্ম কারুকার্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ ভারতের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।
দ্রাবিড় স্থাপত্যে ফুটে উঠবে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্য
পুজো কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এবারের পুজোর ভাবনা ও প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। মণ্ডপসজ্জায় দ্রাবিড় স্থাপত্যের জ্যামিতিক নকশা, সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্লাবের সহ-সভাপতি অভিজিৎ কুমার কর্মকার জানান, এই ধরনের জটিল স্থাপত্যশৈলী ফুটিয়ে তোলা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। তবে বাইরের কোনও ডেকোরেটর সংস্থার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে ক্লাবের সদস্যরাই ঠিকাদারদের সহযোগিতায় মণ্ডপ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মীনাক্ষী ও সুন্দরেশ্বরের পৌরাণিক কাহিনি বিশেষ আকর্ষণ
এবারের পুজোর মূল ভাবনায় রয়েছে দেবী মীনাক্ষী ও ভগবান শিবের সুন্দরেশ্বর রূপের পৌরাণিক বিবাহকাহিনি। সেই কাহিনিকে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতে মণ্ডপে মীনাক্ষী ও সুন্দরেশ্বরের প্রতিমা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সনাতন ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য বজায় রেখে একচালা প্রতিমায় অনুষ্ঠিত হবে দেবী দুর্গার আরাধনা।
নিজস্ব থিম সং প্রকাশ
মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ক্লাবের নিজস্ব থিম সং। গানটির কথা লিখেছেন ক্লাবের সহ-সভাপতি অভিজিৎ কুমার কর্মকার। সুর ও সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অনুরাগ গাঙ্গুলী। সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে গানটি প্রকাশ করা হয়। নানা অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ক্লাবের এই উদ্যোগকে ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুজো কমিটির সভাপতি অভিজিৎ কুমার রায়, সহ-সভাপতি ভানু দেব, জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগারের সহ-সভাপতি অভিজিৎ কুমার কর্মকার, সম্পাদক সরজিত ঘোষ, পুজো কমিটির সম্পাদক সংগ্রাম দে দাস-সহ অন্যান্য সদস্যরা।
দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্য ঐতিহ্য, পৌরাণিক কাহিনি ও সৃজনশীল ভাবনার সমন্বয়ে এবারের শারদোৎসবে শিলিগুড়িবাসীকে এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগারের পুজো উদ্যোক্তারা।