রেলগেট খোলার দাবিতে একদিনের ধর্মঘট, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ী সংগঠনের
শিলিগুড়ি, ৮ অক্টোবর: দুর্গাপুজোর মুখে ফুলেশ্বরী রেলগেট বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। রেলগেট অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার একদিনের ধর্মঘট পালন করে প্রতীকী প্রতিবাদে সামিল হলেন ফুলেশ্বরীর ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের জেরে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন।
পুজোর মরশুমে ক্রেতা কম, বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি
ব্যবসায়ীদের দাবি, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা না করেই আচমকা ফুলেশ্বরী রেলগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার সঙ্গে সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গার যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে কেনাকাটার ব্যস্ত মরশুমে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসার সময়ে এই পরিস্থিতি তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রেলগেট খোলার দাবিতে পথে ব্যবসায়ীরা
ফুলেশ্বরী রেলগেট বন্ধের প্রতিবাদে এর আগেও বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। এবার সেই প্রতিবাদে সরাসরি শামিল হলেন ফুলেশ্বরী ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার একদিনের ধর্মঘটের মাধ্যমে রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের মূল দাবি, সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে এবং এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যকে বাঁচাতে অবিলম্বে রেলগেট খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ফুলেশ্বরী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী বলেন, কোনওরকম পরিকল্পনা ছাড়াই রেল কর্তৃপক্ষ আচমকা রেলগেটটি বন্ধ করে দিয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এর ফলে ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। পুজোর আগে এই সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে দ্রুত রেলগেট খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হবে। এখন রেল কর্তৃপক্ষ এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ফুলেশ্বরীর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।