শিলিগুড়ি,৯ জুন: দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে শান্তিনগর আমতলা প্রগতি সংঘ ক্লাব সংলগ্ন একটি ১০ কাঠা জমির কোনো প্রকৃত মালিকের খোঁজ মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতদিন জমিটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও হঠাৎ করেই জমিটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সম্প্রতি কিছু জমি দালাল ওই জমির উপর নজর দিয়েছে এবং স্থানীয় একটি ক্লাবের কিছু সদস্য ও কয়েকজন বিজেপি কর্মীর সঙ্গে মিলে জমিটি কম দামে কিনে চড়া দামে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাবগ্রাম ২ নম্বর অঞ্চল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমিতে একটি অস্থায়ী সরকারি বোর্ড লাগানো হয়। তবে তাতেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, এখনও দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে এবং জমিটি দখল ও বিক্রির চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এত বছর ধরে আমরা জমিটি পাহারা দিয়ে আসছি। কোনো মালিক কখনও সামনে আসেনি। এখন হঠাৎ করে দালালরা এসে জমি বিক্রির চেষ্টা করছে, তা আমরা হতে দেব না। এখানে মন্দির ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ হোক—সেটাই আমাদের দাবি।”
অন্যদিকে, আমতলা প্রগতি সংঘের সম্পাদক কিশোর দাস দাবি করেন, “আমরা জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে জমিটি ক্রয় করে কীর্তন কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে মালিকের সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে।”
এ বিষয়ে ডাবগ্রাম ২ অঞ্চলের প্রধান মিতালি মালাকার জানান, “এতদিন জমিটির কোনো মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই অঞ্চল থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জমিটি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করার, যার মধ্যে মন্দির নির্মাণও রয়েছে। তবে যদি প্রকৃত মালিক বৈধ নথি নিয়ে সামনে আসেন, তাহলে জমি তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই জমি কেনাবেচার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী যুক্ত থাকলে তা উচ্চ মহলে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”