শিলিগুড়ি থেকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রওনা চার সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী দল
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: মানবিক উদ্যোগে আবারও নজির গড়ল উত্তরবঙ্গের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউনিক ফাউন্ডেশন। অতীতে আমফান, আয়লা এবং ময়নাগুড়ির বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পর এবার বন্যাবিধ্বস্ত আসামের মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এল সংগঠনটি।
সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় আসামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসার সংকটের পাশাপাশি বিপন্ন হয়ে পড়েছে গবাদিপশু-সহ বহু প্রাণীর জীবনও। এই দুর্যোগের সময় মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিলিগুড়ির ইউনিক ফাউন্ডেশন।
২৯ জুলাই (বুধবার) নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) রেলস্টেশন থেকে সংগঠনের চার সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল ট্রেনে করে আসামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, পানীয় জল, ওষুধপত্র এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, দলটি প্রথমে ডিব্রুগড়ে পৌঁছে জেলা প্রশাসনের (ডিসি অফিস) সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় শিবসাগর জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে প্রায় একশোটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সরাসরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।
উত্তরবঙ্গের মানুষের সহমর্মিতায় সফল উদ্যোগ
ইউনিক ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগে উত্তরবঙ্গের বহু সহৃদয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। কেউ খাদ্য ও বস্ত্র দিয়েছেন, কেউ আবার আর্থিক সহায়তা করেছেন। সাধারণ মানুষের এই সহযোগিতাতেই বন্যাদুর্গত পরিবারের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় শুধুমাত্র ত্রাণ বিতরণ নয়, দুর্গত মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সাহস ও মানসিক শক্তি জোগানোও তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও দেশের যে কোনও প্রান্তে মানবিক সংকট দেখা দিলে একইভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়েই কাজ করে যাবে ইউনিক ফাউন্ডেশন।
মানবিকতার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের অন্যান্য সংগঠন ও সাধারণ মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।