শিলিগুড়ি, দার্জিলিং: উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের পর্যটন সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের নিয়ে শিলিগুড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পর্যটন উন্নয়নে সরকারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়
বৈঠকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট ভিশন ও রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলির প্রচার, পর্যটন শিল্পে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করা, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থার প্রসারে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
শিল্পমহলের মতামত ও সমস্যার কথা উঠে আসে
বৈঠকে উপস্থিত পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরা উত্তরবঙ্গসহ গোটা রাজ্যের পর্যটন খাতের বর্তমান সমস্যা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরেন। সরকারের পক্ষ থেকে সেই সমস্ত মতামত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বিনিয়োগকারীদের আহ্বান
সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। জানানো হয়, নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে একটি অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বক্তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। বর্তমান সময়ে এই খাতে বিনিয়োগ করলে আগামী দিনে তার উল্লেখযোগ্য সুফল মিলবে।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটনমন্ত্রী ডা. শঙ্কর ঘোষ, দার্জিলিংয়ের সাংসদ ও বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তা, এমএসএমই দপ্তরের মন্ত্রী অশোক দিন্দা। এছাড়াও পর্যটন দপ্তরের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, ডিরেক্টর অব ট্যুরিজম-সহ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক এবং উত্তরবঙ্গের বিপুল সংখ্যক পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উত্তরবঙ্গকে পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মত প্রকাশ করেন যে, দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে উত্তরবঙ্গ দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই সরকার ও পর্যটন শিল্পের যৌথ উদ্যোগে আগামী দিনে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।