নেপাল থেকে গ্রেপ্তার ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গীর খান ওরফে ‘পুষ্পা’
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গীর খান, যিনি এলাকায় ‘পুষ্পা’ নামেই বেশি পরিচিত। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) নেপাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানকে রাজ্য পুলিশের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সীমানা পেরিয়ে নেপালে আত্মগোপন
একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই পুলিশের খাতায় ফেরার ছিলেন জাহাঙ্গীর খান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি রাজ্য ছেড়ে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ নেপালে আত্মগোপন করেন। ভিনদেশে ছদ্মবেশে থেকে আইনের হাত এড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
গোপন সূত্রের খবরেই বড় সাফল্য
এসটিএফ দীর্ঘদিন ধরেই জাহাঙ্গীর খানের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, তিনি নেপালের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভুয়ো পরিচয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। তথ্য যাচাই করে দ্রুত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করে তদন্তকারী সংস্থা।
এসটিএফ-এর ঝটিকা অভিযানে গ্রেপ্তার
সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল নেপালে পৌঁছায়। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় চালানো হয় বিশেষ অভিযান। সেখান থেকেই জাহাঙ্গীর খান ওরফে পুষ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য
ফলতার প্রাক্তন বিধায়কের এই হাইপ্রোফাইল গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলতা এবং সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার প্রভাব ছিল বলে জানা যায়। ফলে এই গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জেরায় উঠে আসতে পারে একাধিক তথ্য
পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গীর খানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পলাতক অবস্থায় কারা তাকে আশ্রয়, আর্থিক সহায়তা বা অন্যান্য সহযোগিতা করেছে, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ বিষয়ে আদালতের কাছে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হচ্ছে।
রাজ্য পুলিশের বড় সাফল্য
দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বিদেশের মাটি থেকে গ্রেপ্তার করে ফিরিয়ে আনা নিঃসন্দেহে রাজ্য পুলিশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেপ্তারের ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার জট খুলতে পারে এবং সামনে আসতে পারে আরও বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য।