শিলিগুড়ি, ২৮ জুন: শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন সাধারণ মানুষ। রবিবার শিলিগুড়ির মার্গারেট স্কুল মাঠে আয়োজিত ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অভিযোগ শোনেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
সকাল থেকেই কর্মসূচিতে ভিড় জমাতে থাকেন বহু মানুষ। অভিযোগকারীদের দাবি, শহরের একাধিক এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতার মদতে ব্যক্তিগত জমি দখলের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি বিল্ডিং নির্মাণের নিয়মকে উপেক্ষা করে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ চলছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
শুধু জমি দখল বা অবৈধ নির্মাণই নয়, অভিযোগের তালিকায় উঠে আসে কয়েকজন তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের নামও। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, তাঁদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি দখল ও নির্মাণকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রধাননগর থানা এলাকার একাধিক সমস্যা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কেও বিধায়কের কাছে অভিযোগ জানান সাধারণ মানুষ।
সমস্ত অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পর শঙ্কর ঘোষ বলেন, “মানুষের সমস্যার সমাধান করাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রধাননগর থানা, ভক্তিনগর থানা এবং শিলিগুড়ি থানার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি পুলিশের সামনেই তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধিদের কাছে নয়, সাধারণ মানুষকেও আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগেই শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং অভিযোগের বহর থেকেই স্পষ্ট, শিলিগুড়ি শহরে জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর শহরবাসীর।