ইস্কন মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার ঝু/লন্ত দেহ, আ/ত্মহত্যা নাকি খু/ন—তদন্তে পুলিশ
শিলিগুড়ি, ৮ সেপ্টেম্বর: শিলিগুড়ির ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্কন মন্দির সংলগ্ন দুর্গানগর এলাকায় এক যুবতীর রহস্যময় মৃ/ত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ওই যুবতীর ঝু/লন্ত দেহ উদ্ধার করে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। মৃ/তার নাম শিবানী (২৮)। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা এবং শিলিগুড়ির একটি বারে বার ডান্সার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার দেহ
জানা গিয়েছে, দুর্গানগর এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন শিবানী। মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঝুল/ন্ত দেহ দেখতে পাওয়ার পর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আগের রাতে বাড়িতে ঝামেলার অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগের রাতে ওই বাড়িতে ব্যাপক গোলমালের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি, বাইরে থেকে একাধিক যুবকের আনাগোনাও লক্ষ্য করা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুবতীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঘটনাটি আ/ত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
একই বাড়িতে আগেও মৃ/ত্যুর অভিযোগ
এলাকাবাসীর আরও দাবি, এর আগেও ওই বাড়িতে একই ধরনের দুটি মৃ/ত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পাশাপাশি, মৃ/তার সঙ্গে প্রায় ১০-১৫ জন থাকতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর তাঁরা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও বর্তমানে বাড়িতে থাকা অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।
রাতের বেলায় বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে অভিযোগ
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর জিতেন্দ্র সরেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাতের বেলায় বহিরাগতদের আনাগোনা এবং উচ্চ শব্দের সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাস্তায় নে/শার আসর বসার অভিযোগও সামনে এসেছে।
জিতেন্দ্র সরেন জানান, বাড়ির মালিকের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি, ওয়ার্ডে বার-সংক্রান্ত পেশায় যুক্ত মহিলারা কোথায় ভাড়া থাকছেন, সেই সংক্রান্ত একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।