শিলিগুড়ি, ২২ আগস্ট: পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির সমাধানে এবার বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত। সেই লক্ষ্যেই শনিবার শিলিগুড়ির নিউ চামটার একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হল দীর্ঘক্ষণ ধরে ম্যারাথন বৈঠক। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ পাহাড়ের একাধিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর পাহাড়ের সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের পথ খুঁজতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিষ্ঠা জানান, পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে এবার একটি কমিটি কাজ করবে। কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্ত পঙ্কজ কুমার সিং এই কমিটির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন। পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকেও কমিটির সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকে পাহাড়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে একটি ‘গ্রাফ’ বা কাঠামোও তৈরি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পরবর্তী বৈঠকে সেই গ্রাফ পর্যালোচনা করে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কীভাবে এগোনো হবে, তা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এদিকে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে বৈঠক শেষে রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শিমলেকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। গোর্খাল্যান্ড প্রসঙ্গে এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃত্বের তরফেও পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি। ফলে বৈঠকে পাহাড়ের সামগ্রিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলের নীরবতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা রসন গিরি জানান, পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দীর্ঘদিনের দাবিগুলি কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে সমস্যাগুলির সমাধানের পথ খোঁজা হবে। তাঁর দাবি, কমিটির মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা কেন্দ্রের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে আশার আলো দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে কমিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে এবং দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যাগুলির কতটা সমাধান সম্ভব হয়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। পরবর্তী বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর পাহাড়ের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।