বিপর্যস্ত শিলিগুড়ি–মিরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাড়ছে দুর্ভোগ
মিরিক, ১১ সেপ্টেম্বর: টানা বৃষ্টিপাতের জেরে ফের বিপর্যয়ের মুখে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা। প্রবল বর্ষণে বালাসন নদীর জলস্তর ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় দুধিয়া অঞ্চলের অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু ভেসে গিয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি–মিরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ব্যাহত হয়েছে। সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়ির চালকরাও।
প্রবল স্রোতের ধাক্কায় ভাঙল সেতু
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল সকাল থেকেই পাহাড়ে শুরু হয় অবিরাম বৃষ্টি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বালাসন নদীতে জলস্তর বাড়তে থাকে। প্রবল জলস্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে সম্পূর্ণভাবে ভেসে যায়। ফলে ওই পথে যান চলাচল কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পুরনো সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তৈরি হয়েছিল বিকল্প পথ
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে দুধিয়ার পুরনো লোহার সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প হিসেবে হিউম পাইপের অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর ফের লাগাতার বৃষ্টিতে সেই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।
বেইলি ব্রিজ থাকলেও রয়েছে বিধিনিষেধ
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় সেনার তৈরি বেইলি ব্রিজ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সেখানে ভারী পণ্যবাহী গাড়ি ও ট্রাক চলাচলে বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি গাড়ির ছাদে অতিরিক্ত মালপত্র নিয়ে যাতায়াত না করার জন্যও চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেড়েছে।
নজরদারিতে প্রশাসন, বাড়ছে আশঙ্কা
দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার আরও অবনতি হলে পরিস্থিতি জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মিরিক, দুধিয়া ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার যাত্রী এবং চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বালাসন নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
অস্থায়ী সেতু ভেসে যাওয়ায় পাহাড় ও সমতলের মধ্যে যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহণে কত দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।