ময়নাগুড়ির ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তরবঙ্গে ঘটে গেল আরও একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। সোমবার সকালে ফুলবাড়ির মহানন্দা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি দূরপাল্লার ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন দুই তরতাজা যুবক। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফাঁসিদেওয়ার লেচুপাখরি ও কাশীরামজোত এলাকায়।
জানা গিয়েছে, মৃত দুই যুবকের নাম কৃষ্ণ হালদার (২৪) এবং মিন্টু শীল (২০)। দু’জনেই ফুলবাড়ি এলাকার একটি চানাচুর কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে স্কুটি নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। কিন্তু ফুলবাড়ি মহানন্দা ব্যারেজ এলাকায় পৌঁছতেই ঘটে বিপত্তি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃষ্টিভেজা রাস্তায় পিছন দিক থেকে একটি দ্রুতগতির দূরপাল্লার ট্রাক স্কুটিটিকে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে স্কুটি থেকে ছিটকে পড়েন দুই যুবক। এরপর ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তারা। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচারীরা। আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই যুবককে উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। দুই যুবকের অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ময়নাগুড়িতে একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে ফের জাতীয় সড়কে আরও দুই যুবকের প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা প্রশ্ন তুলছে জাতীয় সড়কগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বেপরোয়া যানবাহন চলাচল নিয়ে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্ত ট্রাকটিকে শনাক্ত করে চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা রোধে আরও কড়া নজরদারি চালানো হোক।