শিলিগুড়ি, ২৬ সেপ্টেম্বর: সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মকানুন আরও স্পষ্ট করা এবং সকলের জন্য সমানভাবে তা কার্যকর করার দাবিতে সরব হল উত্তরবঙ্গ সাউন্ড অনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের একাধিক দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যরা।
৬৫ ডেসিবেল সীমা নিয়ে জটিলতার অভিযোগ
সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে সাউন্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৬৫ ডেসিবেলের সীমা নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম সমানভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রশাসন ও অনুষ্ঠান আয়োজকদের চাপে ব্যবসায়ীরা
ব্যবসায়ীদের দাবি, সাউন্ড ব্যবসার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বহু পরিবার ও কর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। উৎসবের মরশুমে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে প্রশাসনের তরফে সাউন্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের পরেও সাউন্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ফলে একদিকে প্রশাসনের নির্দেশ এবং অন্যদিকে অনুষ্ঠান আয়োজকদের চাপ—দুইয়ের মাঝে পড়ে সাউন্ড ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি সংগঠনের।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন
সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সাউন্ড ব্যবহারের নিয়ম আরও স্বচ্ছ করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ।
মহালয়া থেকে ব্যবসা বন্ধের হুঁশিয়ারি
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের আট দফা দাবি দ্রুত বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ না করা হলে মহালয়া থেকে উত্তরবঙ্গজুড়ে সম্পূর্ণভাবে সাউন্ড ব্যবসা বন্ধ রাখা হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।
সংগঠনের এই ঘোষণায় উৎসবের মরশুমে সাউন্ড ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।