শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পায়ে ফুল দিয়ে সম্মান, পড়ুয়াদেরও সচেতনতার বার্তা
শিলিগুড়ি, ১০ সেপ্টেম্বর: জলপাইগুড়ি জেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের সুর আরও জোরালো হচ্ছে। শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের বার্তা দিতে এবার শিলিগুড়ির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হল এক ব্যতিক্রমী প্রতীকী কর্মসূচি।
বুধবার একটিয়াশাল তিলেশ্বরী অধিকারী হাই স্কুলে পৌঁছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-সহ সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সম্মান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল, সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা।
পায়ে ফুল দিয়ে সম্মান, জানানো হল ক্ষমাপ্রার্থনা
অনুষ্ঠানে সংস্থার সদস্যরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পায়ে ফুল দিয়ে তাঁদের সম্মান জানান। একইসঙ্গে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় সমাজের পক্ষ থেকে প্রতীকীভাবে ক্ষমাপ্রার্থনাও করা হয়। সংস্থার সদস্যদের বক্তব্য, শিক্ষকরা শুধু পড়াশোনা শেখান না, একজন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাঁদের প্রতি অসম্মান বা নিগ্রহ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে সচেতনতার বার্তা
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদেরও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা হয়। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, বিদ্যালয়ের পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমাজের প্রতি প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের কথায়, একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হলে ছোটবেলা থেকেই শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রয়োজন।
শিক্ষকদের ফুল দিয়ে সম্মান জানাল পড়ুয়ারাও
সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি এদিন বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও নিজেদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফুল দিয়ে সম্মান জানান। মুহূর্তটি বিদ্যালয় চত্বরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তাও উঠে আসে এই কর্মসূচিতে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়, শিক্ষক নিগ্রহের মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এমন ঘটনায় শুধু শিক্ষক সমাজ নয়, গোটা সমাজই লজ্জিত হয়। ভবিষ্যতে যাতে কোনও শিক্ষককে নিগ্রহের শিকার হতে না হয়, তার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।