শিলিগুড়ি, ১৬ জুন: সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে হায়দারপাড়ার বুদ্ধ ভারতী হাই স্কুল প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল ‘তেরাই লায়ন্স বুদ্ধ ভারতী উদ্যান। লায়ন্স ক্লাব অব শিলিগুড়ি তেরাই এবং বুদ্ধ ভারতী হাই স্কুলের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই উদ্যানের উদ্বোধন উপলক্ষে দিনভর একাধিক সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী বিধায়ক শংকর ঘোষের বিশেষ কাজ থাকার জন্য তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি তবে তার শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন এবং বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের ও তিনিও বিশেষ কাজে শহরের বাইরে আছেন তাই এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে যোগ দেন ড. অরুণজ্যোতি ভিক্ষু-সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, শিক্ষকমণ্ডলী, লায়ন্স ক্লাবের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
উদ্যানটির উদ্বোধনের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দা, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে লায়ন্স ক্লাব অব শিলিগুড়ি তেরাই। ভবিষ্যতে এই উদ্যানকে পরিবেশ সচেতনতা, সামাজিক মেলবন্ধন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতিথিরা পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রুত নগরায়নের ফলে সবুজের পরিমাণ ক্রমশ কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের উদ্যোগ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতেই সাহায্য করবে না, আগামী প্রজন্মকে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল ও সচেতন করে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উদ্যান উদ্বোধনের পাশাপাশি দিনভর রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। বহু স্বেচ্ছাসেবী এই শিবিরে অংশ নিয়ে রক্তদান করেন। রক্তের ঘাটতি মেটাতে এবং মানবসেবার বার্তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন আয়োজকরা। রক্তদাতাদের সম্মাননা স্মারক ও শংসাপত্রও প্রদান করা হয়।
এছাড়াও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যপরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া হয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা-সহ একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। শিবিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল ‘তেরাই অন্নপূর্ণা রসই’-এর উদ্যোগে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বহু মানুষের হাতে পুষ্টিকর খাদ্য তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষা, মানবসেবা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সবুজায়ন ও জনকল্যাণের এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।