হাইকোর্টের নির্দেশে অভিযান, ১৯৯৮ সালে কেনা বাড়ি ভাঙায় ক্ষোভ পরিবারের
শিলিগুড়ি, ১৭ সেপ্টেম্বর: হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লি এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালাল শিলিগুড়ি পুরনিগম। বৃহস্পতিবার পুরনিগমের কর্মীরা এলাকায় গিয়ে একটি বাড়ির চিহ্নিত অবৈধ অংশ ভাঙার কাজ শুরু করেন। অভিযানে বাড়ির কয়েকটি অংশের পাশাপাশি ছাদেরও একাংশ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
১৯৯৮ সালে বাড়ি কেনার দাবি পরিবারের
জানা গিয়েছে, রঞ্জন সরকারের বাবা ১৯৯৮ সালে ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। বর্তমানে রঞ্জন সরকার, তাঁর দুই ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেখানে বসবাস করেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতেই তাঁদের বসবাস। তবে বাড়িটির নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কয়েক বছর আগে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেই মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত।
হাইকোর্টের নির্দেশেই পুরনিগমের অভিযান
দীর্ঘদিন মামলা চলার পর সম্প্রতি হাইকোর্টের তরফে বাড়িটির চিহ্নিত অবৈধ অংশ ধাপে ধাপে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পুরনিগমের কর্মীরা অভিযান চালান। প্রথম ধাপে বাড়ির কয়েকটি অংশ এবং ছাদের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ির আরও চিহ্নিত অংশ নিয়ে পদক্ষেপ করা হতে পারে।
দু’দিন আগে নোটিশ, অভিযোগ পরিবারের
পুরনিগমের অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাড়ির মালিকপক্ষ। পরিবারের বক্তব্য, ১৯৯৮ সালে বাড়িটি কেনার সময় নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পর্কে তাঁরা অবগত ছিলেন না। এত বছর ধরে বসবাসের পর বাড়ির অংশ ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। পরিবারের আরও দাবি, ভাঙার মাত্র দু’দিন আগে তাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়। এই বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
পরবর্তী নির্দেশের দিকে নজর
অন্যদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ীই পুরনিগমের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। ফলে বাড়িটির বাকি চিহ্নিত অবৈধ অংশ নিয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই নজর রয়েছে। এদিনের অভিযানের পর একদিকে আদালতের নির্দেশ ও পুরনিগমের পদক্ষেপ, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বাসিন্দা পরিবারের আপত্তি—দুই দিকই সামনে এসেছে।