শিলিগুড়ি,১২ মে: শহরে ফের জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন উত্তর একটিয়াশাল এলাকায় প্রায় দেড় একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে কুখ্যাত ‘কেজিএফ গ্যাং-এর বিরুদ্ধে। জমির প্রকৃত মালিকের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে অন্য এক ব্যক্তির নামে ওই জমি দখল করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী জমির মালিক অনুপম মৈত্র জানান, বহু বছর আগে তিনি জমিটি ক্রয় করেন এবং এতদিন সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে হঠাৎ করেই কয়েকজন দুষ্কৃতী জেসিবি মেশিন নিয়ে জমিতে ঢুকে পড়ে। তারা সেখানে থাকা নির্মাণ ভেঙে ফেলে এবং কর্মরত নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে জোরপূর্বক জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে জমির বাইরে ‘নিলম সরিয়া’ নামে অন্য এক মালিকের নাম লিখে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
ঘটনার পরদিনই অনুপম মৈত্র ভক্তিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না পাওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, অভিযোগ—তা সত্ত্বেও সেখানে নতুন করে একটি ঘর তৈরি করে নিরাপত্তারক্ষী বসানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অনুপম মৈত্র। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বারবার থানায় গিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে—সরকার বদল হলেও শিলিগুড়িতে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কমেনি। তৃণমূলের আশ্রয়ে থাকা এই চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। জমির কাগজ জাল করে দখল নেওয়ার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, এই ধরনের দখলদারি চক্র বড় ব্যবসায়ীদের হয়ে কাজ করে থাকে। বিধান মার্কেটের এক পরিচিত ব্যবসায়ীর নামও এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, জমির উপর আদালতের ইনজাংশন জারি থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভক্তিনগর থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে তারা উদ্যোগী নয় বলেই দাবি অভিযোগকারীর।
এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং ভক্তিনগর থানার সঙ্গে কথা বলা হবে। এবং এই ঘটনায় যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় বছর দুয়েক আগে শিলিগুড়ি সেবক রোডের কাছে রামকৃষ্ণ মিশনের জমিও ঠিক একই কায়দায় দখল নিয়ে ছিল এই কে জি এফ গ্যাং। সেই সময় তাদের পেছনেও মদদ জুগিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকারের প্রথম সারির নেতা।